সম্পাদকের কলম থেকে

 

১৯৫৯ সাল। উত্তর কলকাতার নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটি শিক্ষিত যুবক। সদ্য বিবাহিত। স্ত্রীকে নিয়ে এক ভক্তিমূলক প্রেমকাহিনী দেখে ফিরছে। একটা অসাধারণ মোচড়ে এক্কা গাড়ির ভিতরে দর্শকদের নিয়ে যাওয়া হল। অপু তাকিয়ে তাঁর পত্নীর দিকে। মাইথোলজিকাল গোদাবরীর ধারে কপোত-কপোতির প্রেম নয়। আধুনিক কামনা বাসনা সম্পৃক্ত প্রেম। এক ভাষার জন্ম দিল এই দৃশ্যকল্প। এই সেই ভাষা যার হাত ধরে উত্তর কলকাতার টালার পার্কের এক ছোট্ট চিলেকোঠার ছাদ থেকে কয়েক হাজার মাইল পেড়িয়ে প্যারিসের রাস্তায় নায়ক নায়িকারা হেঁটে চলেছেন। ক্যামেরা জন্ম দিল এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে যাবার নতুন ঝলক। জাম্পকাট। এই ভাষাতেই আমরা দেখতে পাই, মৃত্যুর সাথে বসে দাবা খেলার দর্শন, কখনও ক্ষুধার্ত বলশেভিকদের উইন্টার প্যালেস দখল। দিন বদলের ছাত্ররা যখন কলেজ, কবিতা, কফি হাউসের দখল নিয়েছে, পরিচালক ক্যামেরার সামনে এসে ছাত্রদের যুক্তি তক্কো গপ্পের মাধ্যমে এক অসাধারণ রাজনৈতিক দলিল রচনা করে চলেছেন। এই ভাষা যেমন সমাজ বদলের উপাদানের সোপান দিয়েছে, তেমনি, বিছানায় সদ্য ঘুম ভাঙা প্রেমিকের উপর নরম রোদের আলো ফেলে, সময়োপযোগী সুরের সংমিশ্রণে, কিভাবে প্রেমের আখ্যান রচনা করা যায় তাও দেখিয়েছে। 
আমাদের এই ক্ষুদ্র পরিসরে এই ভাষাকে নিয়েই আমাদের প্রয়াস। চলচ্চিত্রর কোনও নতুন ব্যাকরণ বা সমালোচনা নয়, এই ভাষার পরিসর নিয়েই আমাদের এই দৃশ্যকল্প।

Facebook Comments
শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *