নীল কালির ছোপ : শুভাশিস রায়চৌধুরী

 

রাত তখন সাড়ে এগারোটা ছাড়িয়েছে। বাড়ির দরজার বাইরে একটা প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে মোড়ের মাথার দিকে ঠায় তাকিয়ে বসেছিল রতনলাল। সেই যে সকালবেলা ছেলেটা চড় খেয়ে বেরিয়েছিল, তখনও তার ফেরার নাম নেই। মোবাইল ফোনটাও সুইচ অফ করে রেখে দিয়েছে হতভাগা। স্বাভাবিকভাবেই তাই রতনলালের মনটা খারাপ ছিল। বেশ কদিন ধরেই ছেলের সাথে কথা কাটাকাটি আর মনমালিন্য চলছিল রতনলালের। কোথা থেকে তার ছেলের মাথায় বুদ্ধি এসেছে তাদের হলুদ ট্যাক্সিটা বেচে দেওয়ার। যা টাকা পাবে সেটা ডাউনপেমেন্ট করে সে ফাইনান্সে নতুন গাড়ি কিনতে চায়। আজকাল নাকি কী সব ফোনে ফোনে গাড়ি বুক করা যায়, সেখানে খাটাবে বলে। শোনামাত্রই না করে দিয়েছিল রতনলাল। তবে তার ছেলেও ছিল একেবারে নাছোড়বান্দা। এভাবে কদিন নানা অছিলায় তার কাছে কথাটা পেড়ে লাভ হয়নি দেখে ছেলে আস্তে আস্তে ঝগড়াঝাঁটির পথ বেছে নেয়। সেটা কয়েকদিন চলার পরে আজ সকালে ব্যাপারটা এমন জায়গায় চলে যায় যে বাধ্য হয়ে রতনলালকে তার গায়ে হাত তুলতে হয়। তখন রাগের বশে যা করেছে ঠিক করেছে ভাবলেও সময়ের সাথে সাথে রতনলালের অনুতাপ বেড়েছে। ছেলের গায়ে রতনলাল শেষবার হাত তুলেছিল বেশ অনেকবছর আগে। যেবার সে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যাবে বলে রতনলাল রাতে ঘুমানোর সময় তার টিপসই নিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে পাঁচ হাজার টাকা তুলেছিল। দুপুরবেলা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে ভাতের হোটেলে খেতে বসার সময়ে নিজের বুড়ো আঙ্গুলে নীল কালির দাগ দেখে সন্দেহ হয় রতনলালের। তিনদিন পরে ছেলে ফিরতে তাকে মাটিতে ফেলে বেল্ট দিয়ে যারপরনাই পিটিয়েছিল সে। তার স্ত্রী না বাঁচালে হয়ত ছেলেটাকে মেরেই ফেলত রতনলাল সেদিন। বেদম মার খাওয়ার পর ছেলের তিনদিন ধুম জ্বর ছিল। রতনলালের রাগ কমতে সে বুঝতে পেরেছিল কাজটা সে ঠিক করেনি। সেই অনুতাপ থেকে, তিন রাত ছেলের মাথার কাছে বসে সমানে জলপট্টি বদলে গেছিল। নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়েও ডাক্তার বদ্যির কোন কসুর রাখেনি। তখনই সে ঠিক করে নেয় একমাত্র ছেলে গায়ে জীবনে আর কোনদিনও হাত তুলবে না। কিন্তু আজকে তার অন্যথা হয়েছে।

-নাহ চড়টা না মারলেই হত। অতবড় ছেলের গায়ে হাত তোলাটা উচিৎ হয়নি।

মনে মনে কথাগুলো ভেবে আবার মোড়ের মাথার দিকে উদাস হয়ে চেয়ে রইল রতনলাল। যাকে নিয়ে এত কাণ্ড সেই হলুদ ট্যাক্সিটা বাড়ির পাশেরই দাঁড় করানো ছিল। সেটার দিকে এতক্ষণ চোখ যায়নি তার। একবার নজর পড়তেই মনটা যেন আরও খারাপ হয়ে গেল রতনলালের। জীবনের অনেকটা সময় গ্যারেজে কাজ করে সে যা সঞ্চয় করেছিল তার সাথে গ্রামের বাড়ির শেষ সম্বল এক ফালা জমি বেচে পাওয়া টাকা দিয়েই কেনা সেই ট্যাক্সি। সেই থেকেই তার সাথে রয়ে গেছে গাড়িটা। সেটাই যেন তার সব। বিগত আঠেরো বছর টানা সেই গাড়িটা চালিয়েছে রতনলাল। শক্তিশালী ইসুজু ইঞ্জিনের অ্যাম্বাস্যাডর গাড়ি। একবারও তাকে ভোগায় নি। তিনমাস অন্তর নিয়ম করে সার্ভিসিং করলেই টাট্টু ঘোড়ার মত ছোটে। স্বাভাবিকভাবেই গাড়িটা রতনলালের কাছে ছিল খুবই প্রিয়। কয়েক মাস আগে পর্যন্ত সে নিজেই চালাতো কিন্তু স্ত্রী আচমকা মারা যেতে আর ইচ্ছা করেনা চালাতে। ছেলেটাও তখন কাজ কর্ম না করে ঘরে বসেছিল, তাই ছেলেকেই সে লাগিয়ে দেয় গাড়ি চালানোর কাজে। তবে গাড়িটার মায়া পুরোপুরি ছাড়তে পারেনি বলে রোজ সকালে উঠে গাড়ি ধোওয়ার আর ম্যাট সাফ করার কাজটা রতনলাল নিজেই করে। আজ সকালেও নিয়ম মাফিক গাড়ি পরিষ্কার করেছিল সে। তার ঠিক পরেই গোলমালটা বাঁধে। রতনলালের ছেলে জগাই গুটি গুটি পায়ে কাছে এসে দাঁড়ায় তার কাছে,

-কি রে? এখনও তৈরি হোস নি?

-আজ যাবো না।

-সেকি কেন? শরীর খারাপ হল নাকি?

-নাহ। -তাহলে?

-আমি আর এই হলুদ ট্যাক্সি চালাবো না।

রতনলাল বুঝল ছেলে আবার সেই নতুন গাড়ি কিনে খাটানোর কথা বলছে। সে একটু গম্ভীর হয়েই বলল,

-এ ব্যাপারে তোর সাথে আগেই কথা হয়ে গেছে জগাই। এ গাড়ি আমি বেচবো না।

-তোমাকে তো কতবার বলেছি এই গাড়ি আজকাল আর কেউ চড়ে না।

-চড়ে না তোদের জন্য।

-মানে? তুমি সারাদিন ঘোরে বসে থাকো তাই জানো না। নতুন অ্যাপ ট্যাক্সি এসে পুরো মার্কেট নিয়ে নিয়েছে। এটাই এখন ফিউচার। হলুদ ট্যাক্সি পড়ে পড়ে মাড় খাচ্ছে।

-সেটার জন্য তোদের মত ড্রাইভারেরা দায়ি। তোরা মিটার থাকতেও তার থেকে বেশি টাকা চাস। প্যাসেঞ্জার কোথায় যেতে চায় তা শুনেই মানা করে দিস। এরকম করলে মার তো খাবেই।

-তো কি করবো? মিটারের ট্রিপে আজকাল চলে না। প্যাসেঞ্জার এমন জায়গায় যেতে চায় সেখান থেকে ভাড়া পাওয়া মুশকিল হয়ে ওঠে। খালি গাড়ি নিয়ে ফেরত আসতে হয় অনেকটা। সেই লোকসানটা কে পোষাবে? এদিকে তেলের যা দাম তাতে করে মিটারের থেকে এক্সট্রা না চাইলে গাড়ি চালানোর দরকার নেই। যা পয়সা আসবে দিনের শেষে সেটা দিয়ে কিসসু হবে না।

-দরকার হয় বেশি ট্রিপ করবি।

-সেটাই তো কথা। বেশি ট্রিপ যদি করতে হয় তাহলে অ্যাপ ট্যাক্সির জন্য করবো। ওখানে ট্রিপের টাকাও অনেক বেশি। আর ওখানে প্যাসেঞ্জার আপনাআপনি চলে আসে। স্ট্যান্ডে হা পিত্যেস করে বসে থাকতে হয়না, কখন আমার নম্বর আসবে।

 

-যাই হোক। এই নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হয়েছে। এ গাড়ি আমি বেচবো না। দরকার হয় আমি নিজেই চালাবো। তুই তোর ব্যবস্থা করে নে।

এই কথাটা শোনার পর জগাই পাশে রাখা জলের বালতিটা আচমকা লাথি মেরে উল্টে দেয়। একটু হকচকিয়ে যায় রতনলাল। এতদিন কথা কাটাকাটি হলেও জগাইকে কে এতটা উগ্র হতে দেখেনি সে। চেঁচিয়ে উঠে জগাই বলে,

-এহ, এমনভাবে বলছে যেন আমার জন্য কি না কি করেছে। ছেলেবেলা থেকেই আমাকে সব চেয়েই আসতে হয়েছে, নিজে থেকে পাইনি কিছুই। জীবনে কিছু করেছো আমার জন্য? রঘুর বাপ ওকে গেলবছর একটা ডিজায়ার কিনে দিয়েছিল। সেটা একবছর অ্যাপ ট্যাক্সিতে খাটিয়ে ও আরেকটা গাড়ি কিনেছে। নিজের ব্যাবস্থা নিজে করে তো নেব, কিন্তু তার আগে বাপ হিসাবে নিজের কিছু তো কর্তব্য করো।

জগাইয়ের কথা শুনে অবাক হয়ে গিয়ে রতনলাল বলে, -তোকে যে পড়াশুনা করালাম সেটার কি হবে? খেয়ে না খেয়ে তোর স্কুলের মাইনে দিয়েছি, টিউশনের টাকা গুনেছি। সেগুলোর কি হবে? তুই বারো ক্লাস পাশ করতে পারিসনি সেটা আমার দোষ?

-পারিনি পারিনি। ড্রাইভারের ছেলে কি আর পণ্ডিত হবে? মেলা বাজে বকো না বাবা। আমি জীবনে কিছু করতে চাই। আমাকে সেই সুযোগটা দাও। আমি তোমার একমাত্র ছেলে। আমি অলরেডি খদ্দেরের সাথে কথা বলে এসেছি। আঠেরো বছরের পুরনো গাড়িরও ভাল দাম দেবে ইঞ্জিনটা ভাল বলে। এবার ভ্যানতারা না করে রাজি হয়ে যাও।

-না হব না। আমি বেঁচে থাকতে এ গাড়ি আমি বেচতে দেব না। দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে রতনলাল। যা শোনা মাত্রই জগাই ট্যাক্সির দরজায় সজোরে এক লাথি মেরে চেঁচিয়ে ওঠে,

-বুড়ো, আমার ভবিষ্যতের থেকে তোমার কাছে এই ট্যাক্সি বড়?

এরপর নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারেনি রতনলাল। জগাইয়ের গালে কষিয়ে এক চড় মেরে দেয় সে। । সেই যে চড় খেয়ে জগাই রেগেমেগে বেরিয়েছিল,আজ এখনও তার ফেরার নাম নেই। রতনলাল দেখল ঘড়িতে বারোটা বেজে পাঁচ। মোবাইল ফোনটা তুলে আরেকবার জগাইয়ের নম্বর ডায়াল করতে এবার সেটায় রিং হল। রিং এর শব্দ শোনামাত্র রতনলালএর মনে হল কে জান তার বুকের ওপর থেকে একটা বড় বোঝা সরিয়ে দিয়েছে। অধীর আগ্রহে সে অপেক্ষা করতে থাকল ওপাশ থেকে সাড়া পাওয়ার। কিন্তু কোন সাড়া এল না। তড়িঘড়ি আরেকবার নম্বরটা ডায়াল করে রতনলাল এবারে আরও একটু বেশি উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে রইল উত্তর পাওয়ার। বেশ অনেকক্ষণ রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে আওয়াজ এল,

-ফিরছি।

ছেলের গলাটা শুনে নিমেষে তার চোখ থেকে নেমে এল জল। কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে গেল। এতক্ষণ মনের ভেতরে চেপে থাকা উৎকণ্ঠার বহিঃপ্রকাশে পাগলের মত কাঁদতে থাকল রতনলাল। গভীর রাতে বাড়ি ফিরল জগাই। রতনলাল জেগে ছিল তখনও। দরজা খুলে দিতে ঘরে ঢুকল ছেলে। রতনলাল দুটো থালায় করে নিয়ে এল রুটি আর কুমড়োর ছক্কা যা দেখে জগাই বলল,

-আমার খিদে নেই। তুমি খেয়ে নাও। ঘুম পাচ্ছে খুব। কাল সকালে আবার গাড়ি নিয়ে বেরোতে হবে।

জগাইয়ের কথায় একটু অবাক হল রতনলাল। এ ছেলে বলে কি? কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েই রতনলাল প্রশ্ন করল,

-গাড়ি নিয়ে মানে?

জগাই জামাকাপড় ছেড়ে লুঙ্গি পরতে পরতেই উত্তর দিল,

-তুমি যখন ঠিক করেই নিয়েছ গাড়ি বেচবে না তখন আমার তো আর যাওয়ার কোথাও নেই। তাই ঐ গাড়িটাই চালাতে হবে। নাহলে পেট চলবে কিকরে?

চোখ চকচক করে উঠল রতনলালের। একমুখ হাসি নিয়ে সে উত্তর দিল,

-সেকিরে? আমি তো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। তুই সত্যিই ওসব ফোনের গাড়ি চালাবি না?

-না। গাড়িটার ইঞ্জিনের এখনও দম আছে। অ্যাপ ট্যাক্সির গাড়িগুলো সব ফঙ্গবেনে। মেন্টেনেন্স প্রচুর। এটা যখন চলছে চলুক না। পরে দেখা যাবে।

-তোর কি হয়েছে বল তো? সকালে এক কথা বলে গেলি আর এখন পুরো আলাদা।

-সকালের ঐ অশান্তির আজ পর সারাদিন অনেক ভাবলাম। দেখলাম তুমি ঠিকই বলেছ। পড়াশোনাটাও ঠিক করে করিনি। বাপের গলগ্রহ হয়ে থাকা ছাড়া আর করবো কি? তুমি যা বলবে আমাকে শুনতে তো হবেই।

জগাইয়ের কথাতে এবার খারাপ লাগলো রতনলালের। সে কি বলবে বুঝে উঠতে পারল না। খাবার থালাগুলো হাতে নিয়ে সে ফিরে গেল রান্নাঘরে। খাবার গুলো আলাদা করে ঢাকা দিয়ে সরিয়ে ফিরে এসে রতনলাল দেখল জগাই ততক্ষণে নিজের ক্যাম্পখাট পেতে শুয়ে পড়েছে। তার এতক্ষণের অনুতাপ যেন নিমেষে একরাশ অপরাধবোধে পরিণত হল। তারপর কি মনে হতে রতনলাল বেরিয়ে এল ঘরের বাইরে। ধীর পায়ে এগিয়ে গেল তার আঠেরো বছরের পুরনো হলুদ ট্যাক্সিটার দিকে। অনেকক্ষণ ধরে সেটাকে ভাল করে দেখে তার বনেটের উপরে হাত বুলিয়ে দিল রতনলাল। হাসিমুখে বলে উঠল,

-আমার জীবনের সবকিছু সঞ্চয়ের বদলে তোকে ঘরে এনেছিলাম। নিজের বউ ছেঁড়া শাড়ি পরে থাকলেও তোর সার্ভিসিং এর তারিখ কখনও বাদ যায়নি। জগাইয়ের কথায় তাই তোকে বেচে দিতে পারিনি।

কথাগুলো বলে এবার ট্যাক্সির সাইড মিররের উপর যে হাল্কা ধুলো পড়েছিল সেটা হাত দিয়ে ঝেড়ে তাতে নিজের মুখটা দেখে রতনলাল আবার তার ট্যাক্সিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

-কিন্তু ছেলেটার আমার মতিগতি ফিরেছে। হাজার হোক ওর শরীরেও তো আমারই রক্ত। আমার মতই যত্ন করবে তোকে দেখে নিস।

তারপর গাড়িটার চারপাশটা কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে সেটার গায়ে দুটো চাপড় মেরে ঘরে ফিরে গেল রতনলাল। পরদিন সকালে গাড়ি ধুতে গিয়ে রতনলাল আবিষ্কার করল গাড়ি জায়গায় নেই। জগাইকেও দেখা যাচ্ছেনা। তারপর গাড়িটা যেখানে দাঁড় করানো থাকে সেখানে অনেক জল পড়ে থাকতে দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হল সে। বালতি আর মগটাও ভিজে রয়েছে। তড়িঘড়ি ঘরে ঢুকে আলনায় জগাইয়ের ইউনিফর্মটা না দেখে এবার পুরোপুরি আশ্বস্ত হল সে। নিজের অজান্তেই তার মুখে ফুটে উঠল হাসি। পুরো ঘটনাটা যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না রতনলাল। জগাই আজ নিজে থেকে গাড়ি ধুয়ে কাজে বেরিয়েছে ভাবতেই তার মনটা খুশিতে ভরে গেল। গতরাতে ট্যাক্সির কাছে করে আসা অঙ্গীকার তাহলে জগাই সত্যিই বিফলে যেতে দেবেনা। এসব ভাবতে ভাবতে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল রতনলাল। বাথরুমের দেওয়ালে একদিকের স্ক্রু খুলে ঝুলে পড়া ছোট্ট র্যাকটা থেকে মাজনের টিউবটা টুথব্রাশের মুখের কাছে নিয়ে এসে টিপতেই নিজের বুড়ো আঙ্গুলের দিকে চোখ গেল তার। নিমেষের মধ্যে রতনলালের হাত থেকে মাজনের টিউব আর টুথব্রাশ, দুটোই পড়ে গেল। তার বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল নিজের বুড়ো আঙ্গুলের ডগা ভর্তি নীল কালির ছোপ দেখে।

 

সামাজিক কর্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *