“ব্যাটলশিপ পোতেমকিন” চলচ্চিত্র তৈরীর কিছু মুহূর্ত : ত্রয়ী দাস

 

“Revolution is war. Of all the wars known in history it is the only lawful, rightful, just and truly great war….In Russia, this war has been declared and begun.” –Lenin/1905.

১৯০৫- একটা বৈপ্লবিক সময় । আইজেনস্টাইনের ব্যাটলশিপ পোটেমকিন –বিপ্লবের আরেক নাম। “ব্যাটলশিপ পোটেমকিন” চলচ্চিত্রটি শুরু হয় লেনিনের এই লেখাটি দিয়ে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আইজেনস্টাইন নিজেই তাঁর এই চলচ্চিত্র তৈরীর কাহিনীটি লিখে রেখে গেছিলেন। একথা অনস্বীকার্য যে আইজেনস্টাইনের সিনেমা বহু প্রজন্মকে ভাবিয়েছে এবং ভাবাবে কারণ তাঁর প্রত্যেকটি সিনেমাই নিখুঁত ব্যাকরণ, তত্ত্ব ও গাণিতিক হিসাবের নমুনা। ব্যাটলশিপ পোটেমকিন চলচ্চিত্র তৈরীর কাহিনীটিও তাই এক বড় ইতিহাস।

১৯২৫ সাল। নিনা আগাদঝানোভা ও আইজেনস্টাইনের যৌথ প্রচেষ্টায় “১৯০৫” চলচ্চিত্রের বিশাল চিত্রনাট্যর একটা পাতার অর্ধেক অংশ নিয়ে তৈরী হয়েছিল “ব্যাটলশিপ পোটেমকিন”। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যটি তৈরী করার কাজটি নেহাত সহজসাধ্য ছিল না কারণ একটি মাত্র সিনেমায় অত দীর্ঘ চিত্রনাট্য শেষ করা সম্ভব হবে কিনা সে বিষয়ে দুজনেই বেশ সন্দিহান ছিলেন -অজস্র চরিত্র এবং ঘটনাও এসে পড়ছিল। ১৯০৫ সালের পরিবেশটি বোঝাতে গেলে একটি যুদ্ধজাহাজের অভ্যুত্থান দেখানো আবশ্যিক আর যুদ্ধজাহাজ নিয়ে চলচ্চিত্র করতে হলে সবথেকে আগে দরকার একটি যুদ্ধজাহাজের। অথচ ১৯০৫ সাল থেকে ১৯২৫ এর যাত্রা ছিল অনেক পরিবর্তনের, মাঝে কেটে গেছে বিশ বছর। ১৯২৫ সালে যে সমস্ত জাহাজ সাগরের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছিল, তার সাথে ১৯০৫ এর যুদ্ধজাহাজের কোনো মিলই নেই আর, ফলে কোনোটাকে দিয়েই চলচ্চিত্রের কাজ চলত না। অবশেষে অনেক খোঁজার পর খবর এল “পোটেমকিন” জাহাজটি না থাকলেও তার মতই দেখতে “টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস” জাহাজটি এখনও টিকে আছে এবং যার নোঙ্গর সমুদ্রের তলায় বালিতে আটকে আছে। এখন জাহাজের তো ব্যবস্থা হলো কিন্তু জাহাজের পাটাতনে যে নাটকীয় দৃশ্যটি ছিল তা দেখাতে হলে খোলা সাগরের জলে জাহাজটিকে ভাসাতে হত। সে তো আর সহজ কাজ নয়, ভাগ্যিস আইজেন্সটাইনের এক সহকারী ছিলেন, নাম লাইওশা ক্রাইয়ুকভ – উপসাগরের একজন পুরনো বাসিন্দা হয়ে দিলেন সমস্যার সমাধান করে। জাহাজটাকে উপসাগরের জলে পাড়ের সাথে লম্বভাবে দাঁড় করানো হল যাতে পেছনে দেখা যায় উপসাগরের জল, আর মাথার ওপর খোলা আকাশ, এমনভাবে আলো-আঁধারির খেলা তৈরী হল যেন মনে হল জাহাজটা জলে ভাসছে। সিগাল পাখির দল পাথরভেবে জাহাজের মাথার ওপর উড়ে বেড়াতে লাগলো।

‘পোতেমকিন’ জাহাজটির পুরনো ব্লু-প্রিন্ট থেকে মাপজোক জোগাড় করে সিনেমার জন্য জাহাজের ডেকের উপর কাঠ দিয়ে তৈরী হল বেশ কিছু ঘর, শুধুমাত্র দৃশ্যগ্রহনের জন্যই। ‘পোতেমকিন’ চলচ্চিত্রটিতে পার্শ্বদৃশ্যে যে যুদ্ধজাহাজটি দেখানো হয়েছে তা আসলে ‘পোতেমকিন জাহাজের আদলে তৈরী একটি ছোট মডেল যা পরবর্তীকালে ভাসিয়ে দেওয়া হয় মস্কোর সান্দুনভ সুইমিং পুলের জলেতে। তখনকার দিনে টেকনিকাল ব্যবস্থা আজকালকার মত এত উন্নত ছিল না, ফলে কাজটি অনেক কঠিন ও পরিশ্রমের ছিল। ‘টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস’ জাহাজটিকে এক ইঞ্চি নড়ানোও সম্ভব ছিল না, এর অন্যতম প্রধান কারণ -এত পুরনো জাহাজের নড়বড়ে দেহ। বিস্তৃত সাগরের জলের দৃশ্যটা ছবির পক্ষে একান্তই জরুরি ছিল, জাহাজটিকে নড়ালে যদি এবড়ো-খেবড়ো পাহাড়ের কোনো অংশ দৃশ্যে এসে যায় তাহলে দৃশ্যটা সম্পূর্ণ মাটি হয়ে যাবে এটাও ছিল আইজেনস্টাইনের চিন্তা। এদিকে আইজেনস্টাইন-দের নিজেদের নড়াচড়া করার অসুবিধাও ছিল অনেক। উপরন্তু সময় ছিল সীমাবদ্ধ, পুরো ছবিটা যদি বিপ্লবের বার্ষিকী অনুষ্ঠানের মধ্যে না শেষ করা যায়, তাহলে এই চলচ্চিত্রটির মাহাত্ম্য থাকবে না, এই চিন্তাও ছিল তাঁদের মধ্যে।

জাহাজটিকে নিয়ে যখন চলচ্চিত্রের কাজ করা হচ্ছে, তখন দেখা গেল বিপ্লবের সময় যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করার জন্যে বারুদভরা মাইন এই পরিত্যক্ত জাহাজে সংরক্ষণ করা হত। এই অবস্থাতেই ‘পোতেমকিন’ চলচ্চিত্রর কাজ করতে হয়েছে। যদিও জাহাজের ডেকে ছবির জন্য যখন ঘর তোলা হচ্ছিল, তখন বিস্ফোরকের তাপ-উত্তাপ ছিল না তবু সবাইকে শুধু আতঙ্কে থাকতে হত –সারাদিন শুধু বিস্ফোরক, বিস্ফোরক, বিস্ফোরক। ধূমপান করা চলবে না, দৌড়োদৌড়ি চলবে না, বেশি আওয়াজ করা যাবে না, এবং ডেকের কাজ শেষ হয়ে যাওয়া মাত্র সব জিনিষ একে একে সরিয়ে ফেলতে হবে। দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে তার প্রধান দায়িত্বে ছিলেন গ্লাজাস্তিকভ(রুশ ভাষায় যার অর্থ বড়ো বড়ো চোখ), যিনি সারাক্ষণ নজর রাখতেন বিস্ফোরক মাইনের দিকে, যাতে আগুন না ধরে, ঝাঁকুনি না লাগে, এবং বিস্ফোরণ না হয়।

যুদ্ধজাহাজে এক পুরনো বিদ্রোহের কাহিনী নিয়ে এই চলচ্চিত্র ইউরোপের অনেক দেশের সেন্সর, পুলিশবাহিনী আর পুলিশ শিবিরের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল, আর এই বিদ্রোহের উপযুক্ত সন্তান ছিল এই চলচ্চিত্রে সৌন্দর্যতত্ত্বের এক বিপ্লব। ইউক্রেনে এই ছবিটি মুক্তির সময় বিরাট শোরগোল পড়ে গেল, এক ব্যক্তির অভিযোগের কারণে চুরির দায়ে ধরা পড়লেন আইজেনস্টাইন। অভিযোগটি ছিল যে ব্যক্তির, তিনি দাবি করেন, ‘পোতেমকিন’ বিদ্রোহে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাই তার কিছু ভাগ আছে নিনা ও আইজেনস্টাইনের চিত্রনাট্য লেখার পারিশ্রমিকে। অথচ তিনি নিজে এই বিদ্রোহ নিয়ে একচ্ছত্রও কোথাও লেখেননি এবং যখন এই ব্যক্তি বলে বস্লেন যে তিনি “গুলি চলার সময় ডেকের উপর ত্রিপলের তলায় ছিলেন,” তখন মামলাটা আদালতে হাজির হল। মামলায় যেন দাবিদারের অকাট্য প্রমাণ সব আছে, আর তাই দাবিদারের উকিলেরা রীতিমতো ক্ষতিপূরণ চেয়ে বসলেন। মহাফাঁপড়ে পড়ে গেলেন এই ছবির টিম কিন্তু মামলার সময় প্রযোজকেরা বেমালুম ভুলে গেছিলেন একটা ব্যপার। ঐ ব্যক্তির দাবি অনুসারে ত্রিপলের তলায় উনি ছিলেন, কিন্তু সত্য ঘটনাটা হল ত্রিপলের তলায় কেউ ছিল না, কেউই থাকতে পারে না কারণ কোনো লোককেই ‘পোতেমকিন’ জাহাজে ত্রিপল ঢাকা দেওয়া হয়নি। ত্রিপলের পরিকল্পনাটা ছিল পুরোপুরিভাবে আইজেনস্টাইনের মস্তিষ্কপ্রসূত।

‘পোতেমকিন’ চলচ্চিত্রে মাতাইয়ুশেংকো চরিত্রে যে প্রাক্তন নৌ-সেনা অভিনয় করেছিলেন, তিনি যখন শুনলেন যে আইজেনস্টাইন পরিকল্পনা করছেন সৈনিকদের হত্যা করার পূর্ব মুহূর্তে তাদেরকে ত্রিপল দিয়ে ঢাকা দিয়ে দেবেন, তখন এই প্রাক্তন নৌ-সেনা প্রবল আপত্তি তুলে বলেছিলেন যে সৈনিকদের গুলি করার আগে ত্রিপলটা জাহাজের ডেকে আনা হয়েছিল যাতে এর ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে হত্যার সময় এক ফোঁটা রক্ত জাহাজের পাটাতনে না পড়ে । কিন্তু আইজেনস্টাইন এই উপদেষ্টার কথা না মেনে চলচ্চিত্রে আমরা যেমন দেখি সেরকম ভাবেই দৃশ্যগ্রহণ করেন। আসলে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন মৃত্যুদন্ডিতদের সাথে জীবনের এই বিচ্ছিন্নতা, বিসদৃশতা এবং এখানেই ‘পোতেমকিন’ বিদ্রোহের এই সত্য ঘটনাটা কে কিছুটা পালটে পরিবেশন করলেন তিনি। এই সময় তাঁর মনে পড়ে যায় গ্যেটের সেই বিখ্যাত উক্তি –‘সত্যতার জন্যে কেউ সত্যকে নাও মানতে পারে’। যদিও এই দৃশ্যটি এক ঐতিহাসিক ভুল থেকে গেল, তবু দর্শকরা তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান নি বা ব্যঙ্গ করেন নি বরং এটি একটি ইতিহাস সৃষ্টি করল এবং এখানেই এক স্রষ্টার জয়।

চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম ছিল –সার্জন। যে অভিনেতাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরে পাওয়া গেল তার অভিনয় বিশেষ মনে ধরছিল না কারোরই।একদিন পুরো ইউনিট নিয়ে আইজেনস্টাইন কমিন্টার্ন জাহাজে বিশেষ কিছু দৃশ্য তোলার জন্য গেলেন, জাহাজের উপর একই অভিনেতাদের মুখ দেখে ক্লান্ত আইজেনস্টাইন তখন দেখছিলেন যাঁরা আয়না ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁদের মুখ। এই সব কলাকুশলীদের মধ্যে ছিল এক ছোট্ট ক্ষীণকায় মানুষ, যে হোটেলে আইজেনস্টাইনেরা অবসরে সময় কাটাতো, সেখানে উনুন ধরানোর কাজ এই মানুষটি করতেন। এই মানুষটির কথা চিন্তা করতে করতে একটা সময় আইজেনস্টাইনের ভাবনা চলে গেল মানুষটির প্রকাশ-ভঙ্গী, শারীরিক বৈশিষ্ট্যের দিকে। মানুষটির ছোট্ট গোঁফ, চতুর চোখ এবং একগুছ ছাগল-দাঁড়ি দেখে তিনি কল্পনা করহিলেন নৌ-বাহিনীর সার্জনের পোশাকে এবং পরবর্তী দৃশ্যগ্রহণের সময় দেখা গেল কিছুক্ষণ আগের সাদা-সিধে শ্রমিক-মানুষটি পরিণত হয়েছে পোতেমকিন চলচ্চিত্রের সার্জনের ভূমিকায়।

একবার এক ছবি ছাপা হয়েছিল যাতে মেক-আপ আর্টিস্ট আইজেনস্টাইনের মুখে এঁটে দিচ্ছেন দাড়ি আর উনি বসে আছেন পাদ্রীর পরচুলা লাগিয়ে। এই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর গুজব রটে গেল চলচ্চিত্রটিতে পাদ্রীর অভিনয় করেছেন আইজেনস্টাইন স্বয়ং। কিন্তু একথা সত্য নয়, পাদ্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সেবাস্তোপোল শহরের এক বাগানের মালী। তবে, চলচ্চিত্রে একটা দৃশ্য ছিল যেখানে পাদ্রী সিঁড়ি থেকে পড়ে যাচ্ছেন ক্যামেরার দিকে পিছন করে। সেই দৃশ্যটিকে চমকপ্রদ করার জন্যেই অভিনয় করতে হয়েছিল স্বয়ং পরিচালককে।

বিখ্যাত কুয়াশাদৃশ্যের কথা বলা যাক এইবার। একসময় গভীর কুয়াশা সমস্ত বন্দর ঢেকে দিয়েছিল, আয়নার মতো উপসাগরের টলটলে জল যেন তুলোয় আবৃত। পরিচালকের কল্পনানুযায়ী তাঁর মনে হল, ওদেসা অপেরা হাউসের পরিবর্তে যদি “সোয়ান লেক” নৃত্যনাট্যটি এই উপসাগরের পরিবেশে অনুষ্ঠিত হত, তাহলে তুষার শুভ্র পোশাক ভাড়া করতে হত না। কিন্তু বাস্তবটা ছিল বড় কঠিন কারণ কুয়াশা মানেই গোটা দিনটা নষ্ট –যেন এক একটা ব্ল্যাক ফ্রাইডে, আর যদি সেই কুয়াশা সাতদিনব্যপী থাকে তবে সাত-সাতটা দিনই নষ্ট। তবু একটা ছোট্ট নৌকো ভাড়া করে আইজেনস্টাইন এবং টিসে ও আলেকজান্দ্রভ নামে দুজন নৌকায় করে কুয়াশামাখা বন্দরের মধ্যে দিয়ে চললেন। এই প্রবল উৎসাহী তিন ভদ্রলোক তাঁদের চলচ্চিত্র ক্যামেরা দিয়ে তুলতে লাগলেন কুয়াশারই ছবি। ক্যামেরার লেন্সে কুয়াশা ধরা দিচ্ছিল এবং আশপাশের যত যাত্রী ছিল তাঁদের চোখে এসবই ছিল পাগলামি। এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পরে হঠাৎ এক আবেগময় মুহূর্ত পাওয়া গেল যেন এক অদ্ভুত বিষাদময় সেতারের সুর বাজছে এবং ‘পোতেমকিন’ চলচ্চিত্রে ভাকুলিঞ্চুকের স্মৃতিতে যে শোকের সুর, তার মন্তাজ তৈরী হয়েছিল এই কুয়াশার দৃশ্যের টুকরোগুলো দিয়ে। ইতিহাসের পাতায় ওদেসা বন্দরের সিঁড়ি খুব গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে এবং এই লম্বা চওড়া সিঁড়ি ‘পোতেমকিন’ চলচ্চিত্রটিকেও অমর এবং জীবন্ত করেছে তার টেকনিক্যাল ব্যবহার ও শিল্পসম্মত সৌন্দর্য। সেই ওদেসার সিঁড়ির দৃশ্যে দেখানো হচ্ছে শত শত মানুষের উপরে গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে, আর সহস্রাধিক পা নেমে আসছে সিঁড়ি বেয়ে, অজস্র মানুষের ঢল নেমে আসছে ওদেসার সিঁড়ি বেয়ে। প্রথমবার তারা খুব সুন্দর করল, দ্বিতীয়বার তাদের গতি যেন একটু কমে এল এবং তৃতীয়বার তারা খুব কম গতিতে নামতে লাগল। দৃশ্যটি সঠিকভাবে গ্রহণের দায়ভার কেবল পরিচালকের, ফলে এক্ষেত্রেও, আইজেনস্টাইন হঠাৎ একটা উঁচু জায়গা থেকে মেগাফোনে ডাক ছাড়লেন, “আরেকটু ঠিক করে্‌ কমরেড প্রোকোপেনকো!” –স্তম্ভিত হয়ে গেল বিশাল মানুষের দল। তবে কি আইজেনস্টাইন সবাইকে চেনেন?বিরাট জনসমুদ্র নবউদ্যমে সামনের দিকে ছুটতে থাকে, সবাই নিশ্চিত যে পরিচালক প্রত্যেককে লক্ষ্য রাখছেন। মজার ঘটনা হল, আইজেনস্টাইন যে ব্যক্তির নাম জানতেন, তার নাম ধরেই ডাক দিতেন।

এই চলচ্চিত্রের আরেকটি অসাধারণ অংশ হল ক্লোজ-আপ শট। ক্লোজ-আপ শটে সমগ্রের একটা অংশকে দেখা যায় বিরাট ভাবে। তাই এই শট দর্শকদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে, চেতনায় নাড়া দেয়। ‘পোতেমকিন’ চলচ্চিত্রে যখন সার্জনকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হল, অসহায় সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছিল ঝুলন্ত চশমাটা।

আইজেনস্টাইনের মতে, কোনো দৃশ্যের চিত্রগ্রহণের মুহূর্তে খুব দক্ষতা ও প্রতিভা দিয়ে বুঝতে হয় সেই দৃশ্য কি দিতে চায়, এমন কি বলতে চায় যেটা দেখ যাচ্ছে না, বা শোনা যাচ্ছে না। শট গুলো পর্দায় তখনই জীবন্ত হয়ে উঠবে যখন সেগুলি প্রস্তুতির সময় কল্পনাকে ছাপিয়ে যাবে। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন একজন পরিচালকের গভীর জ্ঞান থাকবে প্রত্যেকটি দৃশ্য বা চলচ্চিত্রের স্তর সম্পর্কে। তারই সাথে কিভাবে বিভিন্ন বস্তু কাজে লাগানো যায় সেই উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োজন।  “পোতেমকিন” চলচ্চিত্র ছিল ১৯০৫ সালের বিপ্লবের একটি টুকরো ঘটনামাত্র, তাই তার ব্যর্থতা না দেখিয়ে সমগ্র লড়াইয়ের সফলতালে ঐতিহাসিকভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন আইজেনস্টাইন।

Facebook Comments
শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *