‘অস্কার’  শিন্ডলার : শুভাশীষ রায়চৌধুরী

 

বয়স৩২। পেশায় আইটি কুলি। নেশায় সাহিত্য, সিনেমা এবং সঙ্গীতপ্রেমী। ফেসবুকের হাত ধরে তিন বছর আগে লেখালেখির শুরু। কালক্রমে কিছু লিটল ম্যাগ এবং ওয়েবজিনে নিজ লেখা প্রকাশ দেখে আশকারা লাভ।ফলস্বরুপ আরও লেখার বাতিক এবং সেই সুত্রে কিছু গুনী মানুষের সান্নিধ্যে আসা।তাদের মধ্যে একজনের উৎসাহে সম্প্রতী এক শর্ট ফিল্মের চিত্রনাট্য লিখে নিজেকে রাজা উজির ভেবে নেওয়া। আপাতত এভাবেই দিনগত পাপক্ষয় হচ্ছে।

 

 

১৯৯৪ এর ২১ শে মার্চ। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডরোথি চ্যান্ডলার প্যাভিলিয়নের ভিতর বসেছে চাঁদের হাট। সেদিন ছিল ৬৬ তম অ্যাকাডেমি এ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠান। সারা বিশ্বের কাছে যা পরিচিত অস্কার পুরস্কার হিসাবে। একটু আগেই অ্যাল পাচিনোর হাত থেকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার নিয়েছেন হলি হান্টার। তাঁর আগে শ্রেষ্ঠ অভিনেতাঁর পুরস্কার উঠেছে টম হ্যাঙ্কসের হাতে। শেষ দুটো পুরস্কার দেওয়া তখনও বাকি তাই সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল শ্রেষ্ঠ পরিচালক আর শ্রেষ্ঠ সিনেমার নাম জানার জন্য। ঠিক সেইসময়  মঞ্চে উঠে এলেন ক্লিন্ট ইস্টউড। চোখেমুখে চিরপরিচিত সেই ওয়েস্টার্ন কাউবয় সুলভ অভিব্যক্তি। ভাবখানা এমন যেন এই বুঝি কোমরবন্ধ থেকে বন্দুক বের করে ডুয়েল শুরু করে দেবেন। শুরুটা করলেন ভালোই কিন্তু নমিনেশনগুলি বলার সময় একটু হোঁচট খেলেন টেলিপ্রম্পটারের গোলযোগে। সামলে নিয়ে বললেন ‘এইজন্যে আমি এটা টেলিপ্রম্পটার ছাড়াই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু উদ্যক্তারা জোর করল’। যা শুনে দর্শকাসনে উঠল হাসির রোল। তাঁরপর এল সেই মহেন্দ্রক্ষণ। সকল দর্শকের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে ইস্টউড একে একে পড়লেন নমিনিদের নাম যার শেষে বললেন ‘ আর এবারের শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরষ্কার পেয়েছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ তাঁর ছবি শিন্ডলার’স লিস্টের জন্যে’। সাথে সাথে গোটা অডিটোরিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ল। বাজতে থাকল শিন্ডলার’স লিস্টের থিম মিউজিক। সকলে দাঁড়িয়ে উঠে সম্মান জানালেন পরিচালককে। স্ত্রী কেট ক্যাপশওয়ের সাথে চুম্বন আর মায়ের সাথে আলিঙ্গন সেরে মঞ্চে উঠে এলেন স্পিলবার্গ। ইস্টউডের হাত থেকে গ্রহণ করলেন চির ঈপ্সিত সেই পুরস্কার। এর আগে ১৯৭৮ সালে ‘ক্লোজ এঙ্কাউন্টারস অফ দ্য থার্ড কাইন্ড’, ১৯৮২ তে ‘ইন্ডিয়ানা জোন্সঃ রেডারস অফ দ্য লস্ট আর্ক’ আর ১৯৮৩ তে ‘ই.টিঃ দ্য এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল’ এই তিনটি অসাধারণ বাণিজ্যিক ভাবে সফল সিনেমাগুলির জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসাবে অস্কারের নমিনেশন পেলেও শেষ পর্যন্ত সোনালি পুরস্কারটা স্পিলবার্গের হাতে ওঠেনি। হলিউডে ১৯৭৪ সাল থেকে সিনেমা বানানো প্রবীণ পরিচালকের সেই ছিল প্রথম অস্কার জয় আর যে সিনেমার জন্য তাঁর পুরস্কার লাভ সেই ‘শিন্ডলার’স লিস্ট’ নিঃসন্দেহে নাৎসিদের বর্বরতা নিয়ে বানানো যাবতীয় সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম।  যারা সিনেমাটা দেখেছেন তাদের আলাদা করে কিছু বলার দরকার নেই কিন্তু যারা দেখেননি তাদের বলছি এখনি এটা পড়া বন্ধ করে মাস্টারপিসটা দেখুন। একটা অসাধারণ জিনিস মিস করছেন।

 

দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্পিলবার্গের মাথায় ঘুরে বেরিয়েছিল একটাই গল্পের চিন্তা। সে চিন্তার মাঝে গোটা ছয়েক সিনেমাও বানিয়ে ফেলেছিলেন স্পিলবার্গ কিন্তু কোথাও যেন তাড়া করে বেরিয়েছিল সেই একটাই গল্প। একটা মানুষের গল্প, যিনি নাৎসি পার্টির মেম্বার হয়েও ১২০০ ইহুদীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। সারা দেশে যখন নির্বিচারে চলছে ইহুদীদের হত্যালিলা, সেখানে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, নাৎসি সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে এতগুলো নিরপরাধ মানুষকে নিঃস্বার্থ ভাবে কেন বাঁচিয়ে এনেছিলেন অস্কার শিন্ডলার সেটা ভাবতে ভাবতে অবাক হয়ে যেতেন স্পিলবার্গ। এই চিন্তাটি তাঁর মাথায় ঢোকান এমসিএ-ইউনিভার্সাল পিকচারসের প্রেসিডেন্ট সিড সিইনবার্গ। স্পিলবার্গের কাছে তিনি ছিলেন পিতৃতুল্য। তিনি একদিন একটা বই স্পিলবার্গের হাতে দেন। সেটা ছিল ১৯৮২ সালের বুকার পুরস্কার প্রাপ্ত অস্ট্রেলীয় লেখক থমাস কেনেলির বই ’শিন্ডলার’স আর্ক’। আর্ক কথাটা বাইবেলে ব্যবহৃত হয়েছিল নোয়ার বিশালাকৃতি নৌকার জন্য যেটা করে নোয়া মহাপ্রলয়ের সময় বিশ্বের প্রতিটা প্রজাতির দুটি করে জীবের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। সেরকমই নাৎসি শিল্পপতি অস্কার শিন্ডলারের দ্বারা পোল্যান্ডের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলোর হোলোকাস্টের নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ১২০০ জন ইহুদিকে বাঁচানোর গল্প ছিল ‘শিন্ডলার’স আর্ক’। স্পিলবার্গ বইটা পড়ে সিইনবার্গকে সেদিনই বলেছিলেন তিনি এটা নিয়ে সিনেমা বানাতে ইচ্ছুক, কিন্তু কিভাবে কি করবেন সেটা ভাবতে তাঁর সময় লাগবে। আপাতত এমসিএ-ইউনিভার্সাল পিকচারস যেন বইটার সিনেমা বানানোর স্বত্ব কিনে নেয়। সেই সময় আরেক বিখ্যাত হলিউড পরিচালক বিলি ওয়াইল্ডারও ‘শিন্ডলার’স আর্ক’ বইটার স্বত্ব কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়েন কিন্তু অনেক দাম দিয়ে অবশেষে এমসিএ-ইউনিভার্সাল পিকচারস বইটার স্বত্ব কিনে নেয়। সেদিন সিড সিইনবার্গ স্বপ্নেও ভাবেননি যে এত খরচ করে কেনা বইটার স্বত্ব রুপোলী পর্দায় আনতে স্পিলবার্গ দশ বছরেরও বেশি সময় লাগাবেন।

 

একটা সময় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন স্পিলবার্গ। ধরে নিয়েছিলেন যে সেই সিনেমা তাঁর দ্বারা বানানো হবে না। বইটা পড়ার পর হোলোকাস্ট নিয়ে কয়েকবছর রিসার্চ করার সময় তিনি বোঝেন যে সেই বিষয়ে চলচ্চিত্র পরিচালনা করার জন্য তখনও তিনি যথেষ্ট প্রস্তুত বা পরিপক্ক নন। কিন্তু এদিকে তাঁর কথায় এত টাকা দিয়ে স্বত্ব কেনা হয়ে গেছে সেটা তো আর ফেলে দেওয়া যায় না। তাই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অন্যান্য পরিচালক নিয়োগের চেষ্টা করেন। তিনি প্রথমে কথা বলেন বিখ্যাত পরিচালক রোমান পোলানস্কির সাথে, যিনি নিজে একজন হোলোকাস্ট উত্তরজীবী ছিলেন। ওনার মা আউশভিৎজ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে মারা যান। স্পিলবার্গ ভেবেছিলেন সেই ইমোশনাল জায়গা থেকে পোলানস্কি ছবিটা বানাতে রাজি হবেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে পোলানস্কি তা প্রত্যাখ্যান করেন এই বলে যে হোলোকাস্ট তাঁর কাছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। সেটা নিয়ে ছবি বানানো তাঁর পক্ষে সম্ভব না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ২০০২ সালে পোলানস্কি ভাদিস্লাভ স্পিল্ম্যান নামক পোলিশ রেডিওর এক ইহুদি পিয়ানিস্টের জীবনী নিয়ে ‘দ্য পিয়ানিস্ট’ নামক একটি সিনেমা বানান যাতে হোলোকাস্ট এবং নাৎসি বর্বরতা বহাল তবিয়তে ছিল। পোলানস্কি সেই ছবিটির জন্য ২০০৩ সালের শ্রেষ্ঠ পরিচালকের অস্কারও পেয়েছিলেন।  পোলানস্কির প্রত্যাখ্যানের পর স্পিলবার্গ পরিচালক সিডনি পোলাককেও প্রস্তাব দিয়েছিলেন ছবিটি বানানোর জন্য। তিনিও স্পিলবার্গকে মানা করে দেন। স্পিলবার্গ তখন কিংবদন্তি পরিচালক মার্টিন স্কর্সেজির শরণাপন্ন হন এবং তাঁকে চিন্তামুক্ত করে স্কর্সেজি ছবিটা বানাতে রাজি হন। স্কর্সেজি ছবিটা কিভাবে বানাবেন সেই নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করেছিলেন। অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিলেন। ঠিক তখনই ঘটে সেই অদ্ভুত ঘটনা। পিটার প্যানের গল্পের উপর ভিত্তি করে বানানো ‘হুক’ সিনেমাটির সেটে একটা দৃশ্য শুট করার সময় স্পিলবার্গ কোনও এক অজানা কারণে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। শুটিং মুলতুবি করা হয়। একটু ধাতস্থ হতে স্পিলবার্গ ছোটেন স্কর্সেজির কাছে। তাকে গিয়ে বোঝান যে তিনি অবশেষে ‘শিন্ডলার’স আর্ক’  নিয়ে ছবি বানাতে প্রস্তুত। স্কর্সেজির কাছে এসে তিনি এতবার ক্ষমা চান যে বাধ্য হয়ে স্কর্সেজিকে প্রোজেক্টটা ছেড়ে দিতে হয়। স্পিলবার্গের উদ্যম দেখে স্কর্সেজি ঠিক করেন যে সেই ছবি তিনি আর বানাবেন না। তাঁর বদলে স্পিলবার্গ তাকে নিজের কেনা ‘কেপ ফিয়ার’ ছবির রিমেকের স্বত্ব দিয়ে দেন। স্কর্সেজি এই অদলবদলে রাজি হন এবং সেই স্বত্ব নিয়ে ১৯৯১ সালে সিনেমাটা বানান।

 

থমাস কেনেলি যে হোলোকাস্ট উত্তরজীবীর থেকে গল্প শুনে বইটা লিখেছিলেন সেই পোলডেক পেফারবার্গের ডাক পড়ে। তাকে ছবিটার প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। নেওয়া হয় বহু হোলোকাস্ট উত্তরজীবীদের ইন্টারভিউ । সেই ১২০০ জন ইহুদি যাদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন অস্কার শিন্ডলার তাদের খুঁজে বার করে নেওয়া হয় তাদের বয়ান। ডকুমেন্ট করা হয় তাদের স্মৃতিচারণা। যেহেতু তাদের সকলের সংগ্রহের ছবিগুলো সাদাকালো ছিল আর সেগুলো স্পিলবার্গের মনে বসে গিয়েছিল সেহেতু তিনি ঠিক করেন যে ছবিটা তিনি সাদাকালোতেই বানাবেন। তাতে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের রংহীন জীবনটাও ফুটবে ভাল। চিত্রনাট্যকার হিসাবে কথা বলা হয় স্টিভ জেইলিয়ানের সাথে। ছবির নাম ঠিক হয় ‘শিন্ডলার’স লিস্ট’। এতসব কাজকর্ম সেরে স্পিলবার্গ ছবিটা যেই শুরু করতে যাবেন ঠিক সেই সময়ে বাধ সাধে এমসিএ-ইউনিভার্সাল পিকচারস। তিন ঘণ্টার একটা সাদাকালো ছবি তাদের জন্য অনেক ঝুঁকির হয়ে যাচ্ছিল। তারা স্পিলবার্গের কাছে প্রস্তাব রাখে আগে তাদের বাণিজ্যিক লক্ষ্য নিয়ে বানানো সায়েন্স ফিকশন ছবিটা পরিচালনা করতে হবে তাঁরপরে তারা ‘শিন্ডলার’স লিস্ট’ এর পিছনে টাকা ঢালবে। অগত্যা স্পিলবার্গ হাত দেন মাইকেল ক্রিক্টন রচিত ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতে। ছবিটা শেষ করেই ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর স্বপ্নের প্রোজেক্টে।

 

শুরু হল কাস্টিং। মুল চরিত্রের অভিনেতা খুঁজতে কালঘাম ছুটে গেল সকলের। কেভিন কষ্টনার, মেল গিবস্বন, ওয়ারেন বিটি কত বড় বড় নামেরা এসে অডিশন দেন অস্কার শিন্ডলারের চরিত্রের জন্য। কিন্তু কাউকেই পছন্দ হয়নি স্পিলবার্গের। এতদিন পরে ছবিটা তৈরি হতে চলেছিল তাই কোনরকম ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। এদিকে সময়ও চলে যাচ্ছিল। কি হবে ভাবতে ভাবতে স্পিলবার্গ একদিন চলে গেলেন ব্রডওয়েতে ‘অ্যানা ক্রিস্টি’ নামক এক নাটক দেখতে। সেখানে তাঁর চোখে পড়ে দীর্ঘদেহি সুঠাম এক আইরিশ অভিনেতাকে। একে তো ছেলেটি এমসিএ-ইউনিভার্সাল পিকচারসের সিনেমায় কাজ করার জন্য অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত মুখ তাঁরওপর অস্কার শিন্ডলার ছিলেন গোলগাল। কিছুতেই চরিত্রের সাথে যাচ্ছিল না সেই অভিনেতা। তবুও কি মনে হতে তাকে অডিশনে ডেকে পাঠান স্পিলবার্গ। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে অডিশনে এসে অস্কার শিন্ডলারের চরিত্রটা নিজের ঝুলিতে পুরে নেন লিয়াম নিসন। পরবর্তীকালে নিসনের ‘টেকেন’ ছবির সেই বিখ্যাত ডায়লগের মত করে স্পিলবার্গ যেন ভাবছিলেন ‘আই ডোন্ট নো হু ইউ আর, বাট আই উইল ফাইন্ড ইউ অ্যান্ড আই উইল কাস্ট ইউ’। বিশাল এক চিন্তা যেন ঘাড় থেকে নামল তাঁর। পরবর্তী চরিত্র ছিল রক্তপিপাসু পাগলাটে নাৎসি অফিসার আমন গথের। এখানেও অনেক নামি অভিনেতাদের না নিয়ে স্পিলবার্গ পছন্দ করেন ব্রিটিশ অভিনেতা রালফ ফাইন্স কে, যিনি এর আগে মাত্র দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তবে অস্কার শিন্ডলারের হিসাব রক্ষক ইতঝাক স্টার্নের চরিত্রে নেওয়া হয় ‘গান্ধী’ ছবিতে গান্ধীর ভূমিকায় অভিনয়কারী অস্কার জয়ী অভিনেতা বেন কিংসলেকে। মূল চরিত্রদের কাস্টিং এর পর পার্শ্বচরিত্রদের কাস্টিং শেষ হয় এবং অবশেষে শুরু হয় শুটিং।

 

পোল্যান্ডের মূল কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে শুটিংএর অনুমতি না পেলে তাঁর পার্শ্ববর্তী এক পরিত্যক্ত শিলা খাদানে সেটার আদলে তৈরি হয় সেট। সেখানেই ৯২ দিন ব্যাপী চলে ছবির শুটিং। জীবন্ত হয়ে ওঠে থমাস কেনেলির বই ’শিন্ডলার’স আর্ক’ এর চরিত্ররা। মূল ক্যাম্পের ভিতর শুটিংএর অনুমতি না পাওয়া গেলে আউশভিৎজ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের গেটের বাইরে কিছু সিন শুট করার অনুমতি পাওয়া গিয়েছিল। সিনেমাটিকে বাস্তবানুগ দেখানোর জন্য স্পিলবার্গ প্রথমে ভাবেন শুধু পোলিশ আর জার্মান ভাষায় সিনেমাটা বানাবেন কিন্তু পরে মনে করেন যে ইংরেজি দর্শকদের কাছে সাবটাইটেল পড়াটা যদি সিনেমা দেখার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় তাহলে তাঁর ভিসুয়াল ইমেজগুলো মাঠে মারা যাবে। তাই সিনেমাটা ইংরাজিতেই তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৩ এর নভেম্বরে রিলিজ করে ‘শিন্ডলার’স লিস্ট’ আর ১৯৯৪ এর ২১ শে মার্চের অ্যাকাডেমি এ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে জিতে নেয় সাত সাতটা অস্কার। শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কারের পর স্পিলবার্গকে সেদিন আবার মঞ্চে উঠতে হয়েছিল হ্যারিসন ফোর্ডের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার নিতে। এই ছবি স্টিভেন স্পিলবার্গকে জীবনে প্রথমবার শুধু অস্কারটা হাতে নেওয়ার সুযোগ করেই দেয়নি, তাঁর সাথে দিয়েছিল আরও এক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। স্পিলবার্গ ছিলেন কলেজ ড্রপআউট। তিন বছর পড়াশোনা করে মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছিলেন। কলেজ ডিগ্রির ইচ্ছাটা তাই মন থেকে কোনদিনও যায়নি তাঁর। ২০০২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ফিল্ম এবং ভিডিও প্রোডাকশনে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ডিগ্রির ফাইনাল পরীক্ষায় তাঁর স্টুডেন্ট প্রোজেক্ট হিসাবে নিজের বানানো ছবি জমা দিতে হত। সেখানে তিনি জমা দেন ‘শিন্ডলার’স লিস্ট’।

 

 

Facebook Comments
শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *