মেয়েদের মানবাধিকার- সমস্যা ও সমাধান সূত্র : মীরাতুন নাহার

 

মেয়েদের মানবাধিকার- সমস্যা ও সমাধান সূত্র :  মীরাতুন নাহার

 

অধ্যাপিকা, বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং মানবাধিকারকর্মী| ‘সেই মেয়েটির কথা’, ‘নারী প্রগতির তিন পথিকৃৎ’, ‘দেশকন্যার কলমে’ ইত্যাদি বইয়ের লেখিকা| নারী সুরক্ষা ও নারী অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ সর্বজনবিদিত|

 

 

 

আমাদের দেশে বহুকাল ধরে অন্দরমহলকেই মেয়েদের পৃথিবী ধরে নেওয়া হয়েছিল। সেই মহলকে দেখভাল করার কাজকে মনে করা হয়েছিল তাদের বিনা বেতনের পেশা। বিয়েকে গণ্য করা হয়েছিল তাদের জীবন ও যৌবনকে রক্ষা করার অন্যতম বিধিব্যবস্থা। মেয়েদের জন্য স্বনির্ভর জীবনের কথা বলা বা ভাবাই ছিল বাতুলতা মাত্র। কখনও ভ্রমে ভাবা হয়নি যে মানবজীবনের অর্ধেক হল মানবীকুলবালা আর উভয়পক্ষই সমান মূল্যের মানব সম্পদ। অর্ধাংশের সম্ভাবনা-বিকাশে বাধা দান অথবা অপচয়ক্রিয়া সাধন বাকি অর্ধাংশের জন্য গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য হওয়া উচিত কেননা, তাতে সমগ্র দেশের উন্নয়নে বিপুল বাধা উপস্থাপন করা হয়। এই সত্য বহুকাল ব্যাপী বিস্তারিত অজ্ঞানতাবশত আমাদের দেশবাসী বুঝতে অক্ষম থেকেছে এবং তার পরিণতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিপুল অবদানে সজ্জিত বর্তমান অত্যাধুনিক সময়কালে বসেও আমরা তার কুফল ভোগ করছি। মানবী জীবনে বিপর্যয় নেমে আসছে নিত্যদিন সমাজ-সংসারে আধিপত্যের দখল নেওয়া মানব সম্পদের অর্ধাংশ থেকে। প্রশ্ন হল, কিভাবে এমন ব্যবস্থা বলবৎ হতে পারল দীর্ঘকাল ধরে? দেখা যাক রহস্যোদ্ধার করা যায় কিনা!

আমরা দেখতে পাই জন্মাবার ক্ষণটিতে সব শিশুই কাঁদে একই রকম অসহায় মুখবিকৃতি প্রকাশ করে। সেখানে মানব ও মানবীতে কোনো পার্থক্য মেলে না। শিশু বয়সে বেশ কিছু সময় এমনটি কাটে। তারপর শুরু হয়ে যায় মেয়েদের অবলা, দুর্বল অথচ সহনশীল এবং ছেলেদের সবল, দূরন্ত কিনতি অসংযত স্বভাবের সামাজিক প্রাণী হিসেবে গড়ে তোলা। প্রথম পক্ষকে কেবলই সইতে ও মেনে নিতে হয় সব প্রচলিত বিধিব্যবস্থা। অন্যদিকে দ্বিতীয়পক্ষ হয়ে ওঠে দাপুটে পুরুষ। মেয়েদের মেয়ে হওয়ার জন্য বিসর্জন দিতে হয় সব স্বাধীনতা। অন্যদিকে পুরুষ সববিষয়ে স্বাধীন হতে না পারলেও কেবল পুরুষ হওয়ার জন্য তাদের স্বাধীনতা হারাতে হয় না কোনক্ষেত্রে। শিশু বয়স পার হওয়ার পরেই তাই পুরুষ কাঁদলে তাদের শুনতে হয় ‘তুমি না পুরুষ’ অন্যদিকে কান্নাই মেয়েদের জীবনের মূল লক্ষণ হয়ে ওঠে এবং কান্নার সঙ্গে জুড়ে যায় রান্নার মতো জটিল, ঝঞ্ঝাটপূর্ণ কাজের গুরুভার তাদের কাঁধে। কান্না ও রান্না সর্বস্ব জীবনপালনকে তারা ক্রমে তারপর স্বাভাবিক জীবনযাপন বলেই মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়েছে। প্রশ্ন তোলেনি। কেটে গেছে কালের পর কাল। অতঃপর মেয়েদের পুরুষ অথবা পরনির্ভর জীবন দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ে এবং অসহনীয়।

অতঃপর সেই পরনির্ভরতা পরাধীনতার রূপ নেয় মেয়েদের জীবনে। কিছু মেয়ে তা মানতে চায় না। সঙ্গে কতিপয় পুরুষ সহায়ক হয়। নারীমুক্তির প্রশ্ন ওঠে এবং তা তীব্র হয়ে ওঠে কালে কালে পা ফেলে, এখন পর্যন্ত যার সদুত্তর মেলেনি। এর অন্যতম কারণ হল, প্রকৃতিগত কিছু কারণে নারী ও পুরুষের মধ্যে যেসব আপাত পার্থক্য আছে সেগুলিকে বড় করে দেখে উভয়ের মানবিক মর্যাদা বোধকে অসমান বলে ভাবা এবং সেইমত পারিবারিক ও সামাজিক প্রথাদি তৈরি করা ও সেগুলিকে মেনে নেওয়া। মেয়েদের আকর্ষণীয় দেহাকৃতি সর্বস্ব, সন্তান জন্মদাত্রী, সেবিকা, সামাজিক জীব হিসেবে গণ্য করে তাদের মেধা, প্রতিভা, বহির্জগতে বিচরণ করে কর্মক্ষমতা প্রয়োগ করার সামর্থ্য ইত্যাদিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সেগুলির বিকাশে বিন্দুমাত্র আগ্রহ না দেখিয়ে পুরুষ প্রাধান্য চালু হয়ে গেল সভ্য, শিক্ষিত সমাজেও এবং তা ভয়াবহরূপ নিল ক্রমে, যার চলতি নাম নিগ্রহ।

প্রশ্ন ওঠে, নারীমুক্তি কিসের থেকে ? উত্তর হল, প্রধানত আর্থিক পরাধীনতা থেকে যা পরিণত হয়েছিল মেয়েদের আত্মিক পরাধীনতায় অর্থাৎ আত্মনির্ভরহীনতায়। এই পরাধীনতা বহুকাল ধরে তাদের জীবনে প্রধান বেড়ির রূপ নিয়ে থেকেছে এবং এখনও তা চলছে। স্বাধীন মেয়ে তাহল হবে কেমন মেয়ে? এক কথায় বলা যায়, স্বনির্ভর, আত্মশক্তিতে বিশ্বাসী ও বলিয়ান মেয়েই হল স্বাধীন মানবী বা মেয়ে। কিন্তু গভীর আক্ষেপের বিষয় হল, বহুসময়ব্যাপী বিদেশী শাসকের পদানত থাকার পর ভারত-মা নিজে স্বাধীন হওয়ার পরেও তার মেয়েরা আজও স্বাধীন হওয়ার লড়াই শিখে নিতে পারেনি এবং যারা লড়ছে তাদের প্রাণ দিয়েই সে লড়াই লড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি আশার কথা হল, অধিক সংখ্যায় মেয়েরা আজ এই লড়াইয়ে সামিল হতে পিছপা হচ্ছে না। তারা লড়ছে, আগুয়ান হয়েছে তুমুল সাহসে।

কেন এতটা সময় পেরোতে হল মেয়েদের রুক্ষপথের কাঁটা মাড়িয়ে? হেতুগুলি সংক্ষেপে বলে নেওয়া যাক, যেগুলি কতগুলি ভ্রান্ত মত বা ধারণা হলেও আমাদের দেশে আজও মান্যতা পাচ্ছে।

ক) পুরুষদের মতো মেয়েরাও বোঝেনি (আজও অনেকে) যে, তারা দেহসর্বস্ব এবং কেবলই জননীসত্তা সম্পন্ন জীব নয়। তাদের আত্মা আছে, মেধা-প্রতিভা ও বিপুল সামর্থ্য রয়েছে এবং সেই সঙ্গে রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র ব্যক্তি-সত্তা। তারা কেবল জননী-জায়া-পুত্রী ইত্যাদি নয়।

খ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মেয়েদের জন্য নয় কেননা, সেটি কেবল জীবিকা উপার্জনের উপায় মাত্র যা পুরুষের কাজ, মেয়েদের নয় –এই ভাবনা ক্রিয়াশীল ছিল এতকাল এবং এখনও আছে।

গ) সমাজ-জীবনে পুরুষ ও নারীর অবস্থানে বিপুল বৈষম্য ক্রিয়াশীল হয়েছে যাতে সহায়ক হয়েছে উভয় পক্ষই। প্রথম পক্ষ প্রতিপত্তি কামনা বশত এবং দ্বিতীয় পক্ষ অজ্ঞতাবশত ও অভ্যাস বশেও। যেমন পুরুষের জীবনে পাওয়ার তালিকা ভরা-ভর্তি, অন্যদিকে মেয়ের জীবন কেবলই না পাওয়ার ব্যথা-আর্তিপূর্ণ। পুরুষ সেবাপ্রাপক প্রভু আর মেয়েরা সেবিকা। পুরুষ যত কঠিন ততই মান্যগণ্য অন্যদিকে মেয়ে যত কোমল তত ভালো।

ঘ) পুরুষ ও নারীর ‘ব্যক্তিত্ব’ গঠনের শিক্ষা ভারতীয় সমাজ জীবনে আজও(বিশেষত বাঙ্গালী সমাজে) চালু করা যায়নি। সহজ, স্বাভাবিক, মানবিক গুনাবলী অর্জন করে তেমন আচরণে অভ্যস্ত হতে শেখানো হয় না তাদেরকে। অথচ কঠোর এবং নরম হয়ে ওঠার প্রশিক্ষণটি ঠিকই মিলে যায় যথাক্রমে পুরুষ ও মেয়েদের। ফলস্বরূপ পুরুষ প্রতাপশালী হয় আর মেয়েরা হয় মেনে নেওয়া জীব। উভয়ের সহজ, স্বাভাবিক সম্পর্ক তাতে চিড় খায় জীবনের সর্বস্তরে।

ঙ) স্বামী নামক সম্পদ বিনা মেয়ের জীবন ব্যর্থ জীবন এবং সন্তান তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই ধারণা সমাজ-সংসারের শিকড়ে প্রোথিত হয়েছে বহুকাল ধরে।

চ) সমাজ ও রাষ্ট্র তথা দেশগঠন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মেয়েদের কোন ভূমক বহুকাল অস্বীকৃত থেকেছে এবং এখনও এ ব্যাপারে তেমন আস্থাভাজন বলে তাদের মানা হয় না।

এরকম সব ভ্রান্ত ধারণা ক্ষতিকারক হয়েছে প্রধানত মেয়েদের জীবনে এবং পুরুষ ও নারীর সুস্থ সম্পর্ক গঠনে এবং সর্বোপরি দেশ-উন্নয়নে। বলা-বাহুল্য, ভারতের দীর্ঘকালীন পরাধীনতা এই সর্বনাশা সমাজব্যবস্থার ফলেই ঘটেছিল। উভয় মানব-সম্পদ কাজে লাগলে স্বাধীনতা পেতে এত সময় কিছুতেই লাগত না। ক্ষোভের বিষয় হল, আজও এই সত্য সেভাবে মানা হচ্ছে বলে দেখা যায় না।

এবার মেয়েদের বন্ধনমুক্তি পথের প্রতিবন্ধকতার তালিকা পেশ করা যাক।

 

এক

মেয়েরা অবলা , কোমলা , আত্মরক্ষায় অক্ষম বলে সেভাবেই তাদের বড় করে তুলে তাদের সুরক্ষা কৌশল হিসেবে একমাত্র বিয়ে কেই অবলম্বন ভাবা হয়েছে যেটি বাস্তবে মেয়েদের জীবনে বেঁধে মারার ফাঁদ বলে পরিগণিত হয়েছে দেখা যাচ্ছে l

দুই

পুরুষতন্ত্র তথা পুরুষতন্ত্রের নাগপাশ কেটে বের হওয়ার প্রচেষ্টায় অভাবনীয় মাত্রায় নিষ্ঠুর আক্রমণের শিকার হয়েছে l জীবন পথযাত্রার পুরুষসাথীর পক্ষ্ থেকে এতদিন এবং আজও হয়ে চলেছে অবিশ্বাস্য মাত্রায় l

তিন

নারী ও পুরুষের যৌন সম্পর্কে গর্ভধারণ করতে হয় মেয়েদেরকে l উভয় শিশু পৃথিবীতে আসে মাতৃগর্ভে ঠাঁই নিয়ে l সেটিকে মেয়েদের সামর্থ না ভেবে দুর্বলতা বলেই গণ্য করা হয় এবং সেই ধারণাবশত তাদের নানাপ্রকার বিপদমুখী করে তোলা হয় মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়েই l

চার

ঘরবন্দী দীর্ঘকালীন বান্ধাবস্তা এবং শিক্ষার অভাব মেয়েদের যুক্তিবাদী মন গড়ে তোলার পথে বাধা হয়েছে l ফলস্বরূপ তারা নিজেরাই এখনও বহুল সংখ্যায় নিজেদের অসহতাকেই নিয়তি ভেবে নিয়ে জীবন কাটিয়ে চলেছে এবং পরাধীন ব্যবস্তা মোচনের পথানুসন্ধানে ব্রতী হয়ে ব্যর্থ হচ্ছে l

পাঁচ

এই সমকালের শিক্ষিত , সচেতন মেয়েরাও দেখা যাচ্ছে আধুনিকতার নামে চুল , চামড়া , চেহারার জৌলুষ রক্ষা ও বর্ধনের প্রতি অধিক মনোযোগ ও সময় ব্যয় করছে l নিজেকে ব্যক্তিত্বশীল , আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যাক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রতি যত্নবান হওয়ার দিকে , মনে হচ্ছে তাদের যেন আগ্রহ নেই ততখানি l এই আধুনিকতার প্রশিক্ষণ বা প্ররোচনা মেয়েদের সমূহ ক্ষতি সাধন করছে l

ছয়

বিশ্বায়নের তাড়না পুরুষ ও নারী উভয়েরই বুদ্ধিনাশ ঘটাচ্ছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে l যেমন মেয়েরা এতদিন দেশি পুতুলের মতো জীবনযাপন করেছে l এখন তারা বিশ্বায়নের দাপটে বিলিতি পুতুল হওয়ার প্রানপন চেষ্টায় মেতেছে l অবশ্য এটা নারী উন্নয়ন বা বান্ধনমুক্তি সূচক নয় l

সাত

আমাদের দেশে পিছিয়ে পড়া সমাজ ও সম্প্রদায়ের সংখ্যা যেমন নগন্য নয় তেমন তাদের অনাগ্রসরতাও বড় নিষ্ঠুর বাস্তব l সেই সব সমাজ ও সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবনের দৈন্য দুর্দশা আজও এগিয়ে যাওয়া দেশবাসীর জন্য চূড়ান্ত লজ্জার এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে নিঃসন্দেহে ব্যাহত করে চলেছে l

আট

দেশের আইনি ব্যবস্তায় অপরাধীদের জন্য যেসব শাস্তির বিধান রয়েছে নারী নিগ্রহ প্রতিরোধের জন্য সেই আইনগুলিকেই একমাত্র অবলম্বন ভেবে নিয়েছে নারী নির্যাতন অথবা হত্যা সংক্রান্ত অপরাধের শিকার হওয়া মেয়েরা ও তাদের পরিবারবর্গ l ভিন্ন পথের পানে অর্থাৎ মেয়েদের সবল করে গড়ে তোলার পক্রিয়ার দিকে ফিরে তাকাতে তারা জানাই না l তেমন প্রচেষ্টা বা সচেতনার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে দেশীয় সমাজ ব্যবস্তায় l

নয়

চারিদিকে কেবল ভোগের হাতছানি এবং নারীদেহ প্রদর্শন নিৰ্ভর বাণিজ্যনীতি বা সেই নীতিনিৰ্ভর মিডিয়া সংস্কৃতি মেয়েদের পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে ভুলিয়ে দিচ্ছে l পরিণতিতে নারীদেহকে পণ্য করে তোলার ফল ভোগ করতে হচ্ছে অসহায় অবস্তায় জীবন যাপন করা মেয়েদেরকে , যাদের সংখ্যাই দেশে অধিকাংশ শিশুকন্যা ও বয়স্ক মাহিলাদেরকেও l

দশ

পরিবার , সমাজ , রাষ্ট্র , সাহিত্য , সংস্কৃতি , মিডিয়া সার্বক্ষেত্রে নারীদেহকে ব্যবহার করার প্রবণতা দেশে যে পরিস্হিতি সৃষ্টি করেছে সে সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনার বড়ই অভাব অথবা বলা যায়|

 

আর্থিক লাভের হিসেবে মানবজীবনের ভয়াবহ লোকসানকে চিনিয়ে বুঝিয়ে দিতে বাধা দিচ্ছে। ফলস্বরূপ মনুষ্যত্ব বিনাশের মহড়া চলছে সর্বত্র।

কিছু মেয়েরা নিজেরাও এই সময় এগিয়ে চলতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের প্রকুত লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রভুতন্ত্রের জাল ছিঁড়ে বর্হিজগতে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা অর্থাৎ আত্মশক্তি অর্জন করে মস্তিষ্কে চিন্তা, হৃদয়ে অনুভূতি ও বাহুতে বল সঞ্চার ও সঞ্চয় করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের যথাযথ ভূমিকা (অবশ্যই দেশবাসী হিসেবে) পালন করে দেশ ও জাতি গঠন এবং উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি পূর্ণ মর্যাদায় সামিল হওয়া। এক কথায় বলা যায়, পূর্ণ মানবাধিকার অর্জন করতে হবে মেয়েদের নিজেদের সামর্থ‍্যে। উপায় বা পথের সন্ধান তাদেরই করতে হবে লক্ষ্যসাধনের জন্য। দু-চারটি কথা বলা যাক।

১)  পরিবারে পুরুষ ও মেয়ে শিশু সমান শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভ করার সুযোগ যাতে পায় দেখতে হবে। সব রকমের কাজ উভয়ের জন্য। সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ বেছে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। কাজের বিভাজন করে কেউ কাউকে যেন তার ভিত্তিতে হেয় করতে না শেখে।

২)  শরীরচর্চা করে শিশুবয়স থেকেই পুরুষ ও মেয়ে উভয়েই যেন শরীর গঠনে মনোযোগী হয়ে  আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়ে ওঠে।

৩)  পুরুষ ও নারীর সম্পর্ক মানবিক। সেখানে একজন আর একজনকে পীড়নের জন্য কলা-কৌশল অবলম্বন করতে রপ্ত হয়ে উঠবে এমনটি যেন না ঘটে।

৪)  আধুনিকতার নামে নতুন বোতলে পুরনো মদ পরিবেশন করার প্রথা বন্ধ করতে হবে অর্থাৎ মেয়েদের আকর্ষণীয় দেহসর্বস্ব প্রাণী হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় দেখা যাচ্ছে, মস্তিস্ক নয়, মেয়েদের আজও দেহ দ্বারাই আয়-রোজগারে প্রলুব্ধ করার নয়া কৌশল চালু করা হয়েছে যার মাশুল দিতে হচ্ছে নিরীহ, সুযোগ-সুবিধাহারা জীবনে আত্ম-নির্ভরশীল হয়ে ওঠার পথে পা ফেলা মেয়েদের অসহায় ভাবে।

৫)  ‘ছেলে’ এবং ‘মেয়ে-ছেলে’ এভাবে দেখা বা বলা আর নয়। এবার ‘পুরুষ-মানুষ’ ও ‘মেয়ে-মানুষ’ হিসেবেই সমান মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন মানুষ বলে গণ্য করা হোক সব দেশবাসীকে।

৬)  আসলে একটি সনাতন সমস্যার আধুনিক সমাধান সূত্রকে আমরা জেনেও মানছি না-এটাই হল মূল সমস্যা। অথচ বাস্তব সত্য হল, সমস্যাটি সাধন করা মানুষের অসাধ্য নয় কোনও মতেই।

 

 

ছবি ঋণ : অভিষেক ঝা

Facebook Comments
শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *