ফ্যাকাশে আত্মা ও একটি আনকোরা কালার প্যালেট সম্পর্কে এই মাত্র যা ভাবলাম: দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৬

ঞ।

a fragile wind visited our home

বাড়িটা ছেড়ে দেওয়ার কথা উঠছিলো এর পরের মাসে। কারণ আগে তিন ভাগ হওয়া খরচা দুভাগ হওয়ায় আমার -সারা’র দুজনেরই অবস্থা টাইট। বাকি খরচা কমে এলেও,বাড়িভাড়া দুভাগ হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। সারা শহরের দিকে লেডিস হোস্টেলে চলে যাবে,আমি মফস্বলের দিকে কম ভাড়ার কোন বাড়িতে। এমনটাই আপাতত মৌখিক ভাবে ঠিক হয়ে আছে। হেনরি চলে যাওয়ার পরও মাঝেমাঝেই হেনরির ব্যবহার করা ছোট খাটো জিনিস পাওয়া যায়।আসলে দীর্ঘদিন থাকতে থাকতে একটা মানুষ বাড়ির মধ্যে যতটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আরকি। সেসবকে প্যাকেটে ভরে স্টোররুমে রেখে দেওয়া হয়। হেনরি কোনদিন এলে,দিতে সুবিধা হবে। সারা ইদানীং কাজে যায় এখন রোজ। প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই খাটছে বোধহয়। আমাদের দুবেলার খাওয়াদাওয়াই খুব সাধারণ মানের হয়ে গেছে। অধিকাংশ দিনই বান আর স্যুপ। সারা ক্লান্তিতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরে।আমার ঘুম আসতে দেরি হয়।

তোমরা ফিরে এসেছো
যথারীতি কুকুরটাও খুশি খুশি আছে
আজ তেড়ে আসে নি
বরং দেড় বার আদুরে ল্যাজখানা নেড়েছে

তুমি আমাকে গল্প বলছিলে
সারা রাস্তায় কেমন ঘোড়ার খুড়ের দাগ লেগেছিলো
আর তাদের কাছে শান্ত হয়ে বসলে
টক টক করে শব্দ আসে
কোন প্রেত সাহেব যেনো
বিকেলের হাওয়া খেতে বেড়িয়ে সেসব বিলিয়ে গেছেন
সেখান থেকে বাচ্চাদের মত একটা বাঘের মুখোশ কিনে এনেছো

আজ দীর্ঘদিন বাদে আমাদের চুমু খাওয়ার মতো
পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিলো
যদিও ব্যাপারটা একপাক্ষিক ও ইদানীং এই বিষয়ে আমাকে তেমন পাত্তা দাও না

মারিজুয়ানাতে বুঁদ হয়ে আমি বসে থাকি
মাথার মধ্যে
কেউ ক্রুশবিদ্ধ যীশুকে ঝুলিয়ে দিয়ে যায়

আমি ক্রমশ তোমাদের কুকুরটার মত স্বভাবের হয়ে যাচ্ছি

মিস শূন্যের চাকরটা এসে সকাল সকাল সারার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে গেছে। তার খাম অতো ফ্যান্সি না,বরং বেশ খানিকটা কেজোই। সারার আগেই পড়া হয়ে গেছে।কারণ খাম টা অযত্নে ছেঁড়া।

এমাস থেকে আপনাদের বাড়ি ভাড়া পূর্বের এক তৃতীয়াংশ করে দেওয়া হলো।

মিস শূন্য
২৯/৩/১৭

সারার দিকে তাকালে,সে নিজের ব্যোলে স্যুপ ঢালতে ঢালতে ঠোঁট বেঁকিয়ে বল্লো,”হুহ…হেনরির অনুরোধে দয়া দেখাচ্ছে”।

– এরকম লোভনীয় দয়া নিতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। তোমার আছে বুঝি?

– ভেবে দেখবো। জানিয়ে দেবো কালকের মধ্যে। তুমি কি আজ শহরের দিকে যাবে? তাহলে আট টা সতেরোর শহরে যাওয়ার ট্রেনটা ধরতাম একসাথে।

আমি হ্যাঁসূচক মাথা নেড়ে বাথরুমের দিকে এগোই। বাথরুমের দরজা টা খুল্লেই সামনাসামনি একটা ছোট,জলের দাগ লাগা আয়না। তাতে দেখি,আমি অল্প অল্প খুশির হাসি হাসছি।

 

 

পর্ব ৫

Facebook Comments
শেয়ার

One Reply to “ফ্যাকাশে আত্মা ও একটি আনকোরা কালার প্যালেট সম্পর্কে এই মাত্র যা ভাবলাম: দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *