কবিতা ১

অরুন্তুদ / মিঠু নাথ কর্মকার

দিনের জোয়ার শেষে আঁধারের ভাটার টানে
আলেয়ার পথ ধরে পৌঁছে যাই এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে,
ভিজে যাওয়া প্রচ্ছদটা সেঁকে নি বাস্তবের চাটুতে|
উদলা আকাশের নীচে কঙ্কালসার মায়ের স্তন আঁকড়ে জীবন-মৃত্যুর মাঝে ঝোলে অপুষ্ট শিশু,
ফুটপাথে অসুখের চাদর মোড়া পাংশুটে যৌবনকে
ঢেকে রাখে প্রখর নিঃস্ব দৃষ্টি,
লোনা জলের চোরাস্রোতে স্বপ্নের চিতাভষ্ম ভাসায় শৈশব হারানো কিশোর,
মৃত জোনাকীর আলোয় আগন্তকের ছায়া দেখে অভ্যর্থনা জানায় ঘেও কুকুরের দল,
বৈষম্যের ফাঁসে ঝুলন্ত যুগলের অন্তর্লীন স্রোত ভেদ করে রাতের নৈঃশব্দ্য ,
টেথিসের পলি জমে আরেকটা হিমালয়ের আশা ধুলিসাত্ হয় রিক্টারের তীব্রতায়,
বন্ধ্যা সমাজ অপরাধীর উত্পাদন বৃদ্ধি করে মুনাফা খোঁজে|
রাতের বৃন্ত ছেঁড়া ফুটন্ত সকালে সভ্যতার ছাল জড়িয়ে শিক্ষার আতর মাখি ,
সময়কে মুঠো করে যুগের হাওয়ায় পাল তুলি ,
ফ্যাকাসে মুখের নির্বাক আবিল দৃষ্টিপথে রোদচশমার দেওয়াল গড়ে
হেডফোন গুঁজে চাপা দি যন্ত্রণার কোলাহল ,
ঠাণ্ডাঘরের অস্বচ্ছ ঘেরাটোপে কারফিউ জারি করা মগজে পণ্য হয় আধুনিকতার নিষিদ্ধ চিত্র ||

Facebook Comments
শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *