এক ছিলেন কবি (বিনোদ ঘোষাল)

 

এক ছিলেন কবি। তিনি ফেসবুকেই লেখালেখি করতেন। লিখতেনও ভালই। ভাল লেখার কারণে তার ফেসবুক বন্ধু বাড়তে থাকল। তার প্রশংসা শুরু হল। তার লেখা কবিতা শেয়ার হতে শুরু করল ফেসবুকে, হোয়াটসএ্যাপে। এর ফলে সেই কবির বেশ কিছু তরুণ ভক্ত জুটে গেল। তারা দিন রাত উফ অমুকদা কী লিখেছেন আহ অমুকদা ফাটিয়ে দিলেন ইত্যাদি কমেন্ট করে কবির পোস্ট ভাসিয়ে দিতে থাকলেন। সেই কবি এমন প্রশংসার নাওতে চড়ে ভাসিয়ে দিলেন নিজেকে। তার কবিতার পোস্টে শুধুই সুখ্যাতি। কেউ কোনওপ্রকার সমালোচনা করলেই সেই কবি জ্বলে উঠতে থাকলেন কিছুতেই সমালোচনা আর সহ্য করতে পারতেন না। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ব্লক করে দিতেন। তিনি যত সুখ্যাতির কাঙাল হতে থাকলেন তার বন্ধুসংখ্যা তত কমতে থাকল একদিন তার পেটোয়া চ্যালারাও তার প্রতি বিরক্ত হতে শুরু করল। কবির মনে হল ফেসবুকে কিছু বিরোধী কবি তাকে ব্লক করে তার নামে যা তা বলছে। সুতরাং সেগুলো জানার জন্য কবি অজস্র ফেক এ্যাকাউন্ট তৈরি করলেন এবং রাইভাল কবিদের প্রোফাইলে হানা দিতে শুরু করলেন। এইসব করতে গিয়ে তার কবিতা লেখা মাথায় উঠল, শুধুই এইসব টিকটিকিগিরি করতে থাকলেন। রাইভাল কবিদের ওয়ালে গিয়ে তাদের  যাতা ভাবে উত্যক্ত করতে থাকলেন। অনেক বুঝতে পারলেন এইসব কার কীর্তি। ফলে অনেকে তাকে আনফ্রেন্ড করল, অনেককে তিনি আনফ্রেন্ড আর ব্লক করতে থাকলেন। কবির পেটোয়া ফ্যানেরাও অন্য গুরু জুটিয়ে নিয়ে চলে গেল। এইভাবে চলতে চলতে তার চার হাজার আটশো চুরাশিজন বন্ধু সংখ্যা কমতে কমতে একদিন সেই কবি দেখলেন তার ফ্রেন্ড লিস্টে মাত্র সতেরোজন বন্ধু পড়ে রয়েছেন। কবি সেই সতেরোজনকেই পরম বন্ধু মনে করলেন, কারণ এরা কখনও কবির বিদুদ্ধে একটি কথাও বলবে না। কবি যা চাইবেন এরা তাই বলবে। কারণ ওই প্রতিটি প্রোফাইলই ছিল কবির নিজের তৈরি। এরপর কবি নিজের ওয়ালে লিখতে থাকলেন আর ওইসব প্রোফাইলগুলি থেকে নিজের কবিতার ঢালাও প্রশংসা করতে থাকলেন। এইভাবেই খুব খুশিতে ছিলেন সেই কবি। কিন্তু এক সকালে ঘটল এক অঘটন। ঘুম থেকে উঠে নিজের প্রফাইল খুলে কবি ভীষন চমকে উঠে দেখলেন তার ফেকরা তারই পচে যাওয়া কবিতারগুলির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে সারা রাত ধরে!

Facebook Comments
শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *